অনিয়ম ঠেকাতে লটারিতে বদলি


রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষে কেউ তিন বছর আবার কেউ ৯ বছর একই জোনে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। এতে সেবার ক্ষেত্রে অস্বচ্ছতা, অবৈধ লেনদেন ও তদবির বাণিজ্যের অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছিল। আবার কর্মকর্তাদের সেই জোন থেকে বদলি করতে গেলেও তদবিরের কারণে সে বদলি থেমে যায়। যার কারণে রাজউক এবার লটারির মাধ্যমে কর্মকর্তাদের বদলির ব্যবস্থা চালু করেছে। গতকাল সোমবার ১০টায় রাজউকের মতিঝিল কার্যালয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে লটারির মাধ্যমে ৬৭ জন ইমারত পরিদর্শককে বদলি করা হয়। লটারি শেষে সঙ্গে সঙ্গে অফিস আদেশ স্বাক্ষর করে তা জারি করা হয়েছে। নতুন পদায়িত পরিদর্শকরা আগামী রবিবার কর্মস্থলে যোগদান করবেন বলেও আদেশে জানানো হয়েছে।

সূত্র জানায়, রাজউকের ইমারত পরিদর্শকদের একই পদে একই জোনে বছরের পর বছর কর্মরত থাকায় ভবন নির্মাণকাজ পরিদর্শনে অর্থের বিনিময়ে রিপোর্ট প্রদান করার অভিযোগ রয়েছে। ফলে রাজধানীতে বেশির ভাগ ভবন নির্মাণ ও উন্নয়নের ক্ষেত্রে নীতিমালা না মেনে করা হচ্ছিল। যার কারণে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের সংখ্যাও বাড়ছে। এর মধ্যেই চলছে বসবাস ও বাণিজ্যিক কার্যক্রম।

এ বিষয়ে রাজউকের চেয়ারম্যান মো. আনিছুর রহমান মিঞা বলেন, ‘আমরা জনগণের চাহিদামতো সেবা দিতে পারছি না। এজন্য লটারির মাধ্যমে বদলি করা হচ্ছে, যাতে সেবার মান বাড়ে।’ লটারির মাধ্যমে বদলি হলে তাদের কর্মস্পৃহা বাড়বে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘তারা মনে করবেন, তাদের ইচ্ছাকৃত বদলি করা হয়নি। এর ফলে তারা কাজে একটু উত্সাহিত হবেন। সব জোনে একই ধরনের কাজ থাকায় তাদের এই পদ্ধতিতে বদলি করা হয়েছে।’

প্রচলিত অভিযোগের কথা তুলে ধরে রাজউক চেয়ারম্যান বলেন, ‘অভিযোগ আছে, তিনি তো অমুক ক্ষমতাশালী ব্যক্তির তদবিরে এসেছেন। তিনি কী কাজ করবেন। সে কারণে আমরা দেখলাম এভাবে বদলি করা যায়, যেখানে সবাই সমান। এতে করে জনগণের কাছে বার্তা যাবে তিনি কারো লোক নন। আর আপনারাও (উপস্থিত সাংবাদিক) দেখলেন, এই বদলির প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে কোনো ধরনের তদবির লাগেনি।’

তিনি আরো বলেন, কোনো ব্যক্তি নাগরিকদের প্রাপ্য সেবা নষ্ট করলে বা কোনো প্রকার অন্যায় কিংবা অবৈধ কার্যক্রম করলে তাকে অবশ্যই শাস্তির আওতায় আনা হবে। আমরা কার্যক্রম পরিচালনায় স্বচ্ছতা আনতে ও ভবন নির্মাণে ব্যত্যয় ঘটালে আমরা নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছি। তবে তিনবার নোটিশ প্রদান করা হলেও কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান তাদের অবৈধ কার্যক্রম বন্ধ না করলে বা নিজ দায়িত্বে না ভাঙলে আমরা উচ্ছেদ পরিচালনা করছি। বদলিকৃতদের হুঁশিয়ারি দিয়ে চেয়ারম্যান বলেন, পরিদর্শন কাজে যদি কোনো গাফেলতি করা হয় অবশ্যই তাদের ক্লোজ করা হবে ও তাদের কর্মকাণ্ডকে নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হবে।

 

 





Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *