চাপমুক্ত থেকেই সার্বিয়া বাঁধা পার করতে চায় ব্রাজিল

২০ বছরের অপেক্ষা কি শেষ হবে এবার কাতারের মাটিতে? সর্বশেষ ২০০২ সালে এই এশিয়ার মাটি থেকেই নিজেদের পঞ্চম বিশ্বকাপ জিতেছিলো ব্রাজিল। এরপর থেকেই ষষ্ঠ শিরোপার আশায় আশ্যা পেরিয়ে গেছে চার চারটি আসর। এবার কাতারের মাটিতেও ব্রাজিল এসেছে তাদের সেই কাঙ্ক্ষিত হেক্সা জয়ের স্বপন নিয়েই। এবার কি শেষ হবে ২০ বছরের অপেক্ষা? 

হেক্সা জয়ের মিশনে আজ গ্রুপ-জি’তে নিজেদের প্রথম ম্যাচে সার্বিয়ার মুখোমুখি হবে ব্রাজিল। লুসাইল আইকন্মিক স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় আজ দিবাগত রাত ১টায় মাঠে নামবে নেইমারবাহিনী।

বরাবরের মত ফেবারিটের তকমা গায়ে লাগিয়েই বিশ্বকাপ শুরু করতে যাচ্ছে দক্ষিণ আমেরিকান জায়ান্ট ব্রাজিল। তবে হেক্সা মিশনে ফেবারিটের মোড়কে চাপানো প্রত্যাশা থেকে বেরিয়ে ভারমুক্ত হয়ে ভাল খেলা উপহার দিতে চায় তিতের শিষ্যরা।

এবারের ব্রাজিল দলে রয়েছে একঝাঁক তরুণ প্রতিভা, এই তরুণ স্কোয়াড নিয়েই কিছুটা সমস্যায় পড়তেইও পড়তেই পারেন তিতে। ২৬ জনের স্কোয়াডের ১৬ জনেরই নেই বিশ্বকাপ খেলার অভিজ্ঞতা। দারুন প্রতিভাবান এই নতুন প্রজন্মকে নেতৃত্ব দিচ্ছে ভিনিসিয়াস জুনিয়র, রদ্রিগো, রাফিনহা, এডার মিলিটাও, ব্রুনো গুইমারেজ বা অ্যান্থনির মত তরুণ তুর্কিরা। ইউরোপ জুড়ে এলিট ক্লাবগুলোতে খেলে ইতোমধ্যেই যারা প্রতিভার পরীক্ষায় সফলভাবেই উত্তীর্ণ হয়েছেন।

প্রতিভার পরীক্ষায় সফলভাবেই উত্তীর্ণ হয়েছেন। 

প্রতিভার পরীক্ষায় সফলভাবেই উত্তীর্ণ হয়েছেন। 

প্রতিভার পরীক্ষায় সফলভাবেই উত্তীর্ণ হয়েছেন। 

প্রতিভার পরীক্ষায় সফলভাবেই উত্তীর্ণ হয়েছেন। 

প্রতিভার পরীক্ষায় সফলভাবেই উত্তীর্ণ হয়েছেন। 

এই তরুণদের সঙ্গে রয়েছে ব্রাজিলের হেক্সাজয়ের স্বপ্নসারথি নেইমার। ২০১৮ সালের কোয়ার্টার ফাইনলে বেলজিয়ামের কাছে হারের পর থেকে এ পর্যন্ত ৫০ ম্যাচে ৩৭ টি জয় উপহার দিয়েছে ব্রাজিল। এই সময়ের মধ্যে ব্রাজিল কেবলমাত্র একটি আনুষ্ঠানিক ম্যাচে পরাজিত হয়েছে, ২০১৯ সালের কোপা আমেরিকার ফাইনালে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী আর্জেন্টিনার কাছে হেরে শিরোপা খুইয়েছিলো সেলেসাওরা।

চার বছর আগে রাশিয়াতেও গ্রুপ পর্বে এই সার্বিয়ার মোকাবেলা করেছিল ব্রাজিল, সেই ম্যাচে ২-০ গোলে জিতেছিলো সেলেসাওরা। সব ধরনের প্রতিযোগিতা মিলিয়ে শেষ ৭ ম্যাচে দাপুটে জয়ে ব্রাজিল মাঠে নামবে জয়ের আত্মবিশ্বাস সঙ্গে নিয়েই। এই ম্যাচগুলোতে ২৬ গোল দেওয়ার বিপরীতে হজম করেছে মাত্র ২ গোল। এর আগে সার্বিয়ার বিপক্ষে যে দুটি ম্যাচে জয়ী হয়েছিলো ব্রাজিল, তার কোনটিতেই ব্রাজিলের জালে বল প্রবেশ করাতে পারেনি সার্বিয়া।

১৯৯০ সালে স্বাধীনতা প্রাপ্তির পর আগের তিন বিশ্বকাপেই গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নিতে হয়েছে সার্বিয়াকে। প্রথমবারের মত বিশ্বকাপের নক আউট পর্বে খেলার স্বপ্ন নিয়েই কাতারে এসেছে সার্বিয়ানরা। ফিফা র‍্যাংকিংয়ে ২৫তম স্থানে থাকা ‘দ্য ঈগলসরা’ উয়েফা বাছাইপর্বে ৮ ম্যাচে ৬ জয় ও ২ ড্র নিয়ে শীর্ষ দল হিসেবেই কাতারের টিকিট পেয়েছে। এর মধ্যে শেষ ম্যাচে পর্তুগালকে ২-১ গোলে হারিয়েছিল সার্বিয়ানরা।

এর আগে কখনই ব্রাজিলের মত টুর্নামেন্টের হট ফেবারিট দলের বিপক্ষে বিশ্বকাপ শুরু করেনি সার্বিয়া। যে কারণে ম্যাচের আগে মানসিক ভাবে চাঙ্গা থাকাটাও দলের জন্য এই মুহূর্তে খুবই জরুরী। সব মিলিয়ে বিশ্বকাপে শেষ ৯ ম্যাচের ৭ টিতেই হেরেছে সার্বিয়া।

ইউরোপের কোন দেশ হিসেবে এটাই সর্বোচ্চ পরাজয়। এবারের বিশ্বকাপে খেলতে আসা দলগুলোর মধ্যে ৮ পরাজয়ে একমাত্র অস্ট্রেলিয়া তাদের থেকে এগিয়ে আছে।

ব্রাজিল বস তিতে কালকের ম্যাচের জন্য পুরোপুরি ফিট একটি স্কোয়াড হাতে পাচ্ছেন। অ্যান্থনি, গুইমারেজ ও অ্যালেক্স টেলেস সামান্য সমস্যায় থাকলেও তা কাটিয়ে উঠেছেন।

৪-১-৪-১ অথবা ৪-২-৩-১ ফর্মেশনের যেকোন একটিতেই সেলেসাওরা খেলবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। অধিনায়ক থিয়াগো সিলভার সঙ্গে রক্ষণভাগের তিন পজিশনে আরও থাকবেন দানিলো, মারকুইনহোস ও অ্যালেক্স সান্দ্রো। লিভারপুলের এ্যালিসন বেকারই গোলবার সামলানোর দায়িত্ব পাচ্ছেন। ক্যাসেমিরো ও লুকাস পাকুয়েটা সেন্টার-মিডফিল্ডে এগিয়ে রয়েছেন। রাফিনহা ও ভিনিসিয়াস জুনিয়রের সঙ্গে দুই উইংয়ে ১০ নম্বরের জায়গা পূরণ করবেন নেইমার। স্ট্রাইকারের জায়াগায় লড়াই হবে রিচার্লিসন আর গ্যাব্রিয়েল জেসুসের মধ্যে।

অন্যদিকে, গোঁড়ালির ইনজুরি কাটিয়ে পুরোপুরি ফিট না হওয়ায় বদলি বেঞ্চেই থাকার সম্ভাবনা বেশি সার্বিয়ান তারকা আলেক্সান্দান মিত্রোভিচের। আক্রমণভাগ সামলানোর দায়িত্ব পড়তে পারে অপর দুই তারকা লুকা জোভিচ ও ডুসান ভ্লাদভিচের ওপরই।

Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *