পরিবারের হাল ধরতে বাড়ছে শিশুশ্রম


অভাব-অনটনের কারণে পরিবারসমূহের হাল ধরতে বাড়ছে শিশুশ্রম। খাবারের রেস্টুরেন্ট, মোটর ওয়ার্কশপ, বস্ত্রবিতান, চায়ের দোকানসহ বিভিন্ন ধরনের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে শিশুদের কাজ করতে দেখা যায়। মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার হাটবাজারসহ জেলার বিভিন্ন হাটবাজারে, মফস্বল এলাকা ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের কিছু ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে শিশুরা কাজ করছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কমলগঞ্জ উপজেলার শমশেরনগর বাজার, ভানুগাছ বাজারসহ জেলার প্রত্যন্ত এলাকার হাটবাজারে কিছু কিছু ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে শিশুরা কাজ করছে। দৈনিক ৫০ টাকা হিসাবে কিংবা পেটেভাতে তারা কাজ করে। কোনো কোনো দোকানে শিশুরা আরো একটু বেশি পারিশ্রমিক পাচ্ছে। যেসব শিশুদের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করার কথা, তারা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে কাজ করে সংসারের হাল ধরতে শুরু করেছে। পরিবারের অভাব-অনটনের কারণে অধিকাংশ শিশু কাজ করছে বলে জানায়। তবে কম বেতনে কিংবা পেটেভাতে থাকার সুবাধে প্রতিষ্ঠান মালিকরা শিশুদের দিয়ে কাজ চালিয়ে নিচ্ছেন। এতে শিশুরা পড়াশুনার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে এবং নোংরা ও কঠিন পরিবেশে বেড়ে উঠছে।

শিক্ষক জমশেদ আলী, সমাজকর্মী তোয়াবুর রহমানসহ স্থানীয় কয়েক জন জানান, খাবারের হোটেল-রেস্টুরেন্ট, মোটর ওয়ার্কশপ, চায়ের দোকান, মুদি দোকানে মাঝেমধ্যে শিশুদের কাজ করতে দেখা যায়। পরিবারের অভাব-অনটনের কারণেই মূলত তারা কাজ করতে বাধ্য হচ্ছে। এসব পরিবারসমূহের সমস্যা দূর না হলে শিশুরা বিদ্যালয় থেকে ঝরে পড়বে। তারা আরো বলেন, শিশুশ্রম বিষয়ে দেখাশোনার কেউ না থাকায় মালিকরাও এর সুযোগ পাচ্ছেন। তাছাড়া এই শিশুদের ভবিষ্যত্ জীবন গড়তে সংশ্লিষ্টদের ভূমিকা প্রয়োজন।

এ ব্যাপারে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলস্থ কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শনের উপমহাপরিদর্শক মোহাম্মদ মাহবুবুল হাসান বলেন, শিশুশ্রম বন্ধ করতে আমরা ইতিমধ্যে শ্রীমঙ্গলে উদ্বুদ্ধকরণ সভা করেছি। হোটেল-রেস্টুরেন্টসহ বিভিন্ন ধরনের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান মালিকদের নিয়ে উদ্বুদ্ধকরণ সভা করে সচেতনতা সৃষ্টিতে কাজ চালিয়ে যাচ্ছি। মালিকরা চাইলেও শিশুদেরকে কাজে নিয়োগ দিতে পারেন না। তাছাড়া সমাজসেবা অফিস ও বিভিন্ন ধরনের এনজিও সংস্থা থেকে সহযোগিতা করা হয়।

 





Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *